বয়সের কাছে নয় বরং বয়স হার মেনেছে যাদের কাছে।

বয়স কোনো বাধা নয়। বৃদ্ধ শব্দটি তাদের অভিধানে নেই। তাইতো ৮০ বছর বয়সেও কেউ এখনও তরতাজা যুবক। শুধুমাত্র প্যাশনের জোরে এখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় হটেস্ট গ্র্যান্ডপা হয়ে ঝড় তুলে ফেলেছেন আবার কেউ সবচেয়ে বেশি বয়সে জয় করেছেন উত্তর মেরু। দিন শেষে বয়স তাদের কাছে একটি সংখ্যা মাত্র। আজকের পোস্টটিতে এমনই কিছু বয়স্ক নারী ও পুরুষের কথা বলবো যারা শেষ বয়সে এসে এমন কিছু আশ্চর্যজনক কৃতিত্ব অর্জন করে দেখান যা হয়তো অনেক তরুনের কাছেও ঈর্ষনীয় মনে হবে। মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণ, ডিগ্রী অর্জন এবং আরও অনেক কিছু। পড়ুন আর অনুপ্রাণিত হন।

বৃদ্ধ বয়সে প্রাথমিক বিদ্যালয় শুরু

আমাদের মধ্যে একটা বহুল প্রচলিত ভুল ধারনা রয়েছে যে ‘আপনি বুড়ো হয়ে গেলে নতুন কিছু শিখতে পারবেন না’। যদি আপনিও এই ধরনার সাথে একমত পোষণ করে থাকেন তাহলে সময় হয়েছে আপনার ধারনা পরিবর্তন করার। আর যার জন্য ধারনা পরিবর্তন করবেন তার নাম কিমানি মারুজে (Kimani Maruge)। তিনি ৮৪ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হন।

প্রতিযোগীতামূলক ভিডিও গেম খেলোয়াড়

ডরিস শেল্ফ। ছবি ঃ loadingplayertwo.wordpress.com

আপনি ভালো ভিডিও গেম খেলতে পারেন ? ৮১ বছর বয়সি ডরিস শেল্ফের চেয়েও ভালো ভিডিও গেম খেলতে পারেন ? তাহলে তার সম্পর্কে একটা তথ্য দেই, ইনি ১৯৮৪ সালে টুইন গ্যালাক্সি মাস্টার্স টুর্নামেন্টে  ১,১১২,৩০০ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। আর টুর্নামেন্ট সেটিং ছিল (TGTS) – যা খেলাটির সবচেয়ে কঠিন সেটিং। ও, আর ডরিস শেল্ফ গেমিং দুনিয়ায় তার নিজের দেওয়া ছদ্মনাম।

উত্তর মেরু জয়

এভারেস্ট জয়ের চেয়ে উত্তর মেরু জয়ের ইতিহাস কম রোমাঞ্চকর নয়। এটি অত্যন্ত বিরূপ পরিবেশ যার তাপমাত্রা -৪৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (-৪৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট) পর্যন্ত পৌঁছায়। এখানে আবহাওয়া ক্রমাগত পরিবর্তিত হয় ফলে টিকে থাকার জন্য করতে হয় কঠিন লড়াই। তা সত্ত্বেও ৮৯ বছর বয়সী ডোরোথি ডেভেনহিল জয় করেছিলেন উত্তর মেরু। আর এখন অব্দি সবচে বেশি বয়সে উত্তর মেরু জয়ের রেকর্ডটি তারই।

সমুদ্র পথে বিশ্বভ্রমণ

মিনোরু সাইটো। ছবিঃ hk.crntt.com

ফার্ডিনান্ড ম্যাগেলান, ১৫১৯ সালে ম্যাগেলানের নেতৃত্বে যখন স্পেন থেকে সমুদ্র পথে বিশ্ব জয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তারপর থেকে এখন পর্যন্ত অনেকেই সমুদ্র পথে বিশ্ব জয় করেছেন। আধুনিক কালে সমুদ্র পথে ভ্রমণ আরো সহজ হয়েছে উন্নত প্রযুক্তি আর যন্ত্রের কল্যাণে। কিন্তু তারপরও কেউ যখন ৭৭ বছর বয়সে সমুদ্র পথে বিশ্বকে একটা চক্কর দিয়ে আসেন তখন তারা কৃতিত্ব দাবি করতেই পারেন। হ্যাঁ মিনোরু সাইটো (Minoru Saito) ৭৭ বয়সে সমগ্র পৃথিবী ঘুরে আসেন। তাও এক কিংবা দুইবার নয় তিনি আট বার সমুদ্র পথে পৃথিবীকে চক্কর মারেন।

নতুন অ্যালবাম রিলিজ

স্মোকি ডসন। ছবিঃ .youtube.com থেকে

স্মোকি ডসন, একজন অস্ট্রেলিয়ান গায়ক, যিনি ৯২ বছর বয়সে “হোমস্টেড অব মাই ড্রিমস” নামের একটি গানের অ্যালবামের প্রকাশ করেন যা তাকে সবচে বেশি বয়সে অ্যালবাম প্রকাশকারী ব্যক্তিতে পরিণত করে। অস্ট্রেলিয়ায় “কাউবয় গায়ক ” হিসাবে পরিচিত ডসন সঙ্গীতে তাঁর অবদান  সরূপ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

 ডাক্তার লেইলা ডেনমার্ক

ডাঃ লেইলা ডেনমার্ক ছিলেন একজন আমেরিকান শিশু বিশেষজ্ঞ যিনি ২০০৩ সালের মে মাসে ১০৩ বছর বয়সে অবসর গ্রহণের পূর্বে “সর্ব জৌষ্ঠ শিশু বিশেষজ্ঞ” উপাধি অর্জন করেছিলেন। তিনি শুধু জৌষ্ঠ চিকিৎসকই ছিলেন  তা না, ১১৪ বছর বয়সেও তিনি ছিলেন একজন সংস্কৃতি সচেতন ব্যক্তি। তিনি তথকালীন ১০০ বৃদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ছিলেন এবং তার মৃত্যুর সময় বিশ্বের চতুর্থতম বৃদ্ধ ব্যক্তি ছিল।

ম্যারাথন বিজয়ী

গ্ল্যাডিস বাররিল। ছবিঃ portorchardchip.wordpress.com

যারা নিয়মিত ম্যারাথনে দৌড়ান তারা এর জন্য প্রয়োজনীয় কঠোর প্রশিক্ষণ করেন। এটি এমন একটি শারীরিক ধৈর্যর পরীক্ষা যা এমনকি একজন অভিজ্ঞ ম্যারাথন রেসার কেও চ্যালেঞ্জ করতে পারে। গ্ল্যাডিস বাররিল, (৯২ বছর বয়স্ক) গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এর সবচেয়ে বৃদ্ধ ব্যক্তি হিসাবে একটি ম্যারাথন শেষ করে এই চ্যালেঞ্জটি পূরণ করেছিলেন।

মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায়

টামে ওয়াতানাবে। ছবিঃ daily-currentnews.blogspot.com

২৮ বছর বয়স থেকে টামে ওয়াতানাবে (Tamae Watanabe) পর্বতমালায় আরোহন করা শুরু করেন। এর পর এটাই যেন তার নেশায় পরিণত হয়। ১৯৭৭ সালে তিনি প্রথমে ম্যাককিনলে মাউন্টেন এরপর একে একে তিনি মন্ট ব্ল্যাঙ্ক, মাউন্ট কিলিমানজারো এবং অংককাগুয়া পর্বতমালার চূড়ায় উঠলেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি নিজের গ্রামে ফিরে আসেন এবং ২০০২ সালের মে মাসে তিনি মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় আরোহন করে সবচে বেশি বয়সে এভারেস্ট বিজয়ী নারী হিসাবে নিজের নাম রেকর্ড বইয়ে সংযুক্ত করেন। দশ বছর পর, ২০১২ সালের মে মাসে, তিনি তার নিজের গড়া আগের রেকর্ডটি ভাঙেন, তখন তার বয়স ৭৩ বছর।

ফ্লাইট প্রশিক্ষক

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন ফ্লাইট কন্ট্রোল অফিসার। বার্ট ব্রাটকো ৮১ বছর বয়সে এখন আজ বিশ্বের সবচেয়ে বয়সী ফ্লাইট প্রশিক্ষক তিনি।

ডক্টরেট ডিগ্রি

ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনে সবচেয়ে সবচেয়ে বয়সী ব্যক্তি অধ্যাপক ডাঃ হেনজ ওয়েদারথ (জার্মানি), তিনি ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০০৪ সালে গোটফ্রিড উইলহেল্ম লিবিনিউ বিশ্ববিদ্যালয় অব হ্যানোভার থেকে ৯৭ বছর বয়সে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল “Cell Biological Studies in the Morphology and Physiology of primitive marine Placozoons Trichoplax Adhaerens”।

সেরা অভিনেতা হিসাবে অস্কার জয়

হেনরি ফোন্ডা

“অন গোল্ডেন পন্ড” ছবিটি হেনরি ফোন্ডার হাতে অস্কার তুলে দিয়েছিল (সেরা অভিনেতার জন্য) আর সেই সাথে ৭৬ বছর বয়সে সেরা আভিনেতা নির্বাচিত হওয়া হেনরি ফোন্ডা এখন পর্যন্ত সবচে বেশি বয়সে অস্কার পাওয়া আভিনেতা। এছাড়াও তাকে গোল্ডেন গ্লোব শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে ফোন্ডা খুবই অসুস্থ ছিলেন, তবে তার মেয়ে জেন তার পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহন করেন।

সেরা অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে অস্কার

৮০ বছর বয়সে জেসিকা ট্যান্ডি “ড্রাইভিং মিস ডেইসি” (১৯৮৯) ছবিতে তার ভূমিকার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর ক্যাটাগরিতে একাডেমী অ্যাওয়ার্ড জিতেছিলেন। এই চরিত্রের জন্য তিনি গোল্ডেন গ্লোবও জিতেছিলেন।

বৃদ্ধ বয়সে যাত্রী বিমানের পাইলট

অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল জেমস সি ওয়ারেন টাসকায়েজ এয়ারম্যানের একজন প্রাক্তন বৈমানিক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীতে প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান সামরিক বিমানচালক। ৮৭ বছর বয়সে তিনি যাত্রী বিমান উড্ডয়নের লাইসেন্স পাওয়ার মাধ্যমে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসাবে যাত্রী বিমান চালনর অনুমতি পেয়েছিলেন।

আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি

৬৭ বছর বয়সে, ইউক্রেনের ভূতাত্ত্বিক পাভেল রিজভো ৬১ দিনের মধ্যে আটলান্টিক মহাসাগরের ৩০০০ মাইল অতিক্রম করে বেশি বয়সে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার রেকর্ড করার কৃতিত্ব দেখান।

৮০ বছরের মডেল

এখন যার কথা বলবো তিনি চীনের ওয়াং দেসুনের। তিনি পরিণত হয়েছেন একজন ৮০ বছরের সফল মডেল হিসেবে! বয়স তার কাছে কেবলই কিছু সংখ্যা মাত্র। তিনি যখন র‍্যাম্পে হাঁটেন, তখন বোঝা মুশকিল তার বয়স ৮০। তিনি এখনও ২০ বছরের যুবক মনে করেন নিজেকে।

Leave a Reply

20 + seventeen =

Close Menu
Close Panel